বহুমাত্রিক নিরাপত্তায় সুরক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
ফুকুশিমা ও চেরনোবিলের মতো অতীতের ভয়াবহ দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
রুশ কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রূপপুরের মতো তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক প্ল্যান্টে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ১০ লাখ বছরে একবার। কোনো অভ্যন্তরীণ ত্রুটি দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণে এনে রিঅ্যাক্টর সিলগালা করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা কক্ষ, যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রায় আড়াই হাজার কর্মী অন্তত তিন দিন নিরাপদে থাকতে পারবেন। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে গ্রিন সিটিতে আরেকটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে জরুরি অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনসাধারণকে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে কেন্দ্রের আশপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৬৪টি সাইরেন টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, কোনো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেটি শুধু প্রকল্পের বিষয় থাকবে না, জাতীয় পর্যায়ের জরুরি অবস্থায় পরিণত হবে। তখন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।